বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সংঘাতের কারণে এ রুটে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়ায় ভোজ্যতেলের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বেশকিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা পাঠায়। তারা জানায়, এ পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেয়া হবে না। এমনকি কোনো জাহাজ যাতায়াতের চেষ্টা করলে তা পুড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দেয় ইরান।
২১ মাইল প্রশস্ত হরমুজ প্রণালিটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরগুলো থেকে জাহাজ বের হওয়ার একমাত্র পথ এটি। প্রতি মাসে এ পথ দিয়ে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে প্রায় তিন হাজার জাহাজ চলাচল করে। এর সিংহভাগেই অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই সয়াবিন তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওমাহাভিত্তিক অ্যাডভান্সড ইকোনমিক সলিউশনসের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিল ল্যাপ বলেন, যুদ্ধের স্থায়িত্বের ওপর বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে। জ্বালানি তেলের বাজারের সঙ্গে সয়াবিন তেলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যখন জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, তখন সয়াবিন তেলের বাজারও একে অনুসরণ করে।
অন্যদিকে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় গম ও ভুট্টার বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ডলারের বিনিময় হার বাড়ায় অন্যান্য দেশের জন্য মার্কিন পণ্য কেনা আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে।